আমাদের সম্পর্কে
হিদায়াহ ফাউন্ডেশন একটি নিবেদিতপ্রাণ বেসরকারি সংস্থা (NGO) হিসেবে শিশু, যুব ও নারী কল্যাণে কাজ করে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য একটি সুন্দর ও উন্নত জীবনধারা নিশ্চিত করা। আমরা বিশ্বাস করি যে প্রতিটি মানুষ মর্যাদা, শিক্ষা, এবং সুস্থতার অধিকারী।
আমাদের মিশন হলো সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনের মানোন্নয়ন করা। আমরা বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বাস্থ্য, এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজের সেবা করি।
নীতি ও আদর্শ
ইসলামী আদর্শ ও মধ্যমপন্থা: পবিত্র কুরআন ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ হলো আমাদের মূল ভিত্তি। ইসলামের প্রাথমিক যুগের অনুসৃত পদ্ধতির আলোকে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে সব কার্যক্রম পরিচালনা করি।
ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সংহতি: আমরা উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। সৎ কাজে উৎসাহ দেওয়া এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে শক্তিশালী করি।
উদারতা ও সহনশীলতা: আমাদের দাওয়াহ ও অন্যান্য কার্যক্রমে প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার সাথে উদারতা ও সহনশীলতার নীতি মেনে চলা হয়।
মানবতা ও সমতা: বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ বা জাতিগত পার্থক্য নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সমান আচরণ ও সেবা নিশ্চিত করা।
অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা: বৃহত্তর পরিবর্তন আনার জন্য বিভিন্ন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে কাজ করা।
দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন: দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে এমন প্রকল্প গ্রহণ করা, যা সমাজের স্থায়ী উন্নয়নে অবদান রাখা।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: সকল কার্যক্রমে আর্থিক হিসাব এবং কার্যক্রমের অগ্রগতির তথ্য নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা।
সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি: সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।
সম্মান ও সম্মাননা: সমাজের প্রত্যেক সদস্যের সম্মান ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করা।
নিরপেক্ষতা: আমরা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করি।
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য

প্রাজ্ঞ আলেম ও নিবেদিতপ্রাণ দা‘য়ী ইলাল্লাহ গড়ে তোলা: কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষা সম্বলিত আধুনিক যুগোপযোগী পাঠক্রম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং মাদরাসা প্রতিষ্ঠা।

প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ: শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নানা সামাজিক ও জীবনমুখি বিষয়ের ওপর প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা।

উচ্চতর ইলমী গবেষণাকেন্দ্র: উচ্চতর ইসলামিক গবেষণা ও শিক্ষার জন্য কেন্দ্র স্থাপন।

কর্মজীবী নর-নারীর ইসলামশিক্ষা কোর্স: কর্মজীবী নর-নারীর জন্য বিভিন্ন মেয়াদী ইসলামশিক্ষা কোর্সের আয়োজন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা: সুন্নাহর চেতনাকে কেন্দ্রে রেখে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা।

প্রাক প্রাথমিক স্তরে বুনিয়াদি শিক্ষা: প্রাক প্রাথমিক স্তরে বুনিয়াদি শিক্ষা বিস্তারে ”সবাহী মকতব” প্রতিষ্ঠা।

অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের সহায়তা: অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে পড়ালেখা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগানো।

বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বিমোচন: হস্তশিল্প, যন্ত্রশিল্প, কারিগরি, খামার ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীলতার জন্য অর্থ সহায়তা প্রদান।

ত্রাণ-সহায়তা প্রদান: সময়ে সময়ে এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগকালে উপদ্রুত অঞ্চলে ত্রাণ-সহায়তা প্রদান।

রামাদান ইফতার ও দা’ওয়াহ আয়োজন: রামাদান মাসে অভাবগ্রস্তদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ ও দা’ওয়াহ এর আয়োজন।

ঈদ উপলক্ষে ফিতরা, পোশাক ও ঈদ-সামগ্রী বিতরণ: দুঃস্থদের মধ্যে ঈদ উপলক্ষে ফিতরা, পোশাক ও ঈদ-সামগ্রী বিতরণ।

কুরবানীর আয়োজন: সচ্ছলদের পক্ষ হতে কুরবানীর আয়োজন করে দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণ।

উপার্জন উপকরণ বিতরণ: দুঃস্থদের মধ্যে রিকশা, সেলাই মেশিন ইত্যাদি উপার্জন উপকরণ বিতরণ।

সুপেয় পানির ব্যবস্থা: সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নলকূপ ও জলাধার স্থাপন।

পরিবেশ সুরক্ষা: অভাবী পরিবার ও আবাসিক মাদরাসার আঙিনায় অধিক ফলনশীন বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা।

আত্মনির্ভরশীলতার প্রশিক্ষণ: শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্য নানামুখী প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান।

বিধবা ও এতিমদের সহায়তা: বিধবাদের ব্যয়ভার গ্রহণ ও এতিমদের পরিণত হয়ে ওঠা অবধি অভিভাবকের দায়িত্ব গ্রহণপূর্বক শিক্ষাদান ও প্রতিপালন।

আদর্শ মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনা: শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণকর সমাজ গঠনে সহায়ক আদর্শ মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনা।

ওয়ায মাহফিল ও আলোচনাসভা আয়োজন: বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদরাসা, জেলা অডিটরিয়াম, উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন, মাঠ প্রভৃতি সমাগমস্থলে সাপ্তাহিক, মাসিক, বার্ষিক ও উপলক্ষ-সাময়িক ওয়ায মাহফিল, মুক্ত মতবিনিময় এবং আলোচনাসভা আয়োজন।

বইপত্র প্রকাশ ও প্রচার: বিশুদ্ধ ইসলামিক জ্ঞান, আকীদা, কর্মনীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে মৌলিক ও প্রমাণ্য বইপত্র প্রকাশ ও প্রচার।

শিরক-বিদ‘আত নির্মূল: শিরক-বিদ‘আত, প্রান্তিকতা ও উগ্রপন্থা নির্মূলে উদ্যোগ গ্রহণ।

সামাজিক মাধ্যমে প্রচার: বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠানের তথ্যচিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার।

অমুসলিমদের উদ্দেশ্যে দা’ওয়াহ: অমুসলিমদের উদ্দেশ্যে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্য তুলে ধরে বই রচনা, অনুবাদ, প্রকাশ ও প্রচার।

কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতি প্রতিরোধ: ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ ও অপসংস্কৃতি প্রতিরোধে নানামুখি ব্যবস্থা গ্রহণ।

ফ্যামিলি কাউন্সেলিং বিভাগ: ফ্যামিলি কাউন্সেলিং বিভাগ পরিচালনা।

দীনি জিজ্ঞাসা ও পরামর্শের জন্য কল সেন্টার: দীনি জিজ্ঞাসা ও পরামর্শের জন্য উন্মুক্ত ‘কল সেন্টার’ স্থাপন।

মুসলিম ইয়ুথ ক্লাব: মুসলিম ইয়ুথ ক্লাব প্রতিষ্ঠা।

দা’ওয়াহ প্রশিক্ষণ: ইমাম ও খতীবদের জন্য দা’ওয়াহ প্রশিক্ষণ।

শিশু-কিশোরদের ইসলামী সংস্কৃতিকেন্দ্র: শিশু-কিশোরদের ইসলামী সংস্কৃতিকেন্দ্র নির্মান।

পাঠাগার প্রতিষ্ঠা: পাঠাগার প্রতিষ্ঠা।

শরয়ী সমাধান বিভাগ: শরয়ী সমাধান বিভাগ পরিচালনা।
আয়-ব্যয়ের নীতিমালা
দান ও অনুদান

ব্যক্তিগত দান: সমাজের দানশীল ব্যক্তিরা আমাদের ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা আমাদের কার্যক্রমের জন্য অনুদান প্রদান করে থাকে।

আন্তর্জাতিক অনুদান: বিদেশি সংস্থা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকেও আমরা অনুদান গ্রহণ করি।

চ্যারিটি ইভেন্ট: বিভিন্ন সময়ে আমরা চ্যারিটি ইভেন্টের আয়োজন করে থাকি, যা থেকে সংগৃহীত অর্থ আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়।

ফান্ডরেইজিং ক্যাম্পেইন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ফান্ডরেইজিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।

যাকাত: আমাদের যাকাত তহবিল থেকে অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হয়। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে আমাদের তহবিল সংগ্রহ করা হয়।

ফিতরা: ঈদের সময় ফিতরা সংগ্রহ করে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
অন্যান্য উৎস

কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটি (CSR): বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান তাদের সিএসআর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমাদের ফাউন্ডেশনে অনুদান প্রদান করে।

স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সহায়তা: আমাদের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা তাদের সময় ও অর্থ দিয়ে আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করেন।
বিশ্লেষণ

প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ: প্রতিটি প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হয় যাতে যথাযথ ভাবে তহবিল বরাদ্দ করা যায়।

কার্যক্রমের মূল্যায়ন: প্রতিটি কার্যক্রমের সম্ভাব্য প্রভাব ও ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়।
পরিকল্পনা

ব্যয় বাজেট প্রস্তুতি: প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেট তৈরি করা হয় এবং তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

প্রকল্পের প্রায়োরিটি: প্রকল্পগুলোর গুরুত্ব এবং প্রয়োজনে অনুযায়ী তাদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়।
ব্যয়

নিরীক্ষণ ও পর্যালোচনা: প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা পরিচালিত হয় যাতে কোনো অপচয় না হয়।

খরচের হিসাবরক্ষণ: সমস্ত ব্যয়ের হিসাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং নিয়মিত হিসাব-নিকাশ করা হয়।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বদা স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয় এবং সমস্ত কার্যক্রমের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।

প্রকল্প পরিচালনা: প্রতিটি প্রকল্পের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় যারা প্রকল্পের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করে।

নিয়মিত প্রতিবেদন: সমস্ত ব্যয় সম্পর্কিত কার্যক্রমের উপর নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

পর্যালোচনা ও উন্নয়ন: ব্যয়ের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয় এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।